স্বাস্থ্য

পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

  প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১:৩৩:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বিচ্ছিন্ন পুষ্টি প্রকল্পের পরিবর্তে জাতীয় মালিকানায়, সরকারের নেতৃত্বে এবং দেশীয় অর্থায়নে বহুখাতভিত্তিক সমন্বিত পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সম্মেলনের প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ড. হায়দার বলেন, পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, টেকসই অর্থায়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। বিশেষ করে একই ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী একই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিসরে সমন্বিত পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিতে হবে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সত্ত্বেও দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু এখনো খর্বকায়ত্বে (স্টান্টিং) ভুগছে। একই সঙ্গে মাতৃ অপুষ্টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

ড. হায়দার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের অভাবে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি জাতীয় পুষ্টি অগ্রাধিকারগুলোকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘পুষ্টি খাতে পরবর্তী বড় অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সুশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে হবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন কমিটি গঠন কিংবা বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

এ লক্ষ্যে তিনি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান, দেশীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, পুষ্টিঝুঁকির ভিত্তিতে ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারণ, স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ডব্লিউএএসএইচ) এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্লেনারি অধিবেশনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (জিএআইএন) নলেজ লিডারশিপ ম্যানেজার মুদুদুজি এমবুয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) নিউট্রিশন, ডায়েটস অ্যান্ড হেলথ বিভাগের পরিচালক ডিয়ানা ওলনি। অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেসের (আইইউএনএস) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।

ড. হায়দার আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নবপরিকল্পিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করছে। এ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রধানত চিকিৎসানির্ভর ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, খর্বকায়ত্ব হ্রাস, মাতৃ অপুষ্টি মোকাবিলা এবং জনগণের স্বাস্থ্যের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিসেবা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি কৃষি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

বক্তব্যের উপসংহারে ড. হায়দার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের কেন্দ্র করে বিভিন্ন খাতের পুষ্টিসংক্রান্ত কার্যক্রমের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় কেবল আমাদের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার মূল পদ্ধতিতে পরিণত করতে হবে।’

আরও খবর

Sponsered content