প্রতিনিধি ২ আগস্ট ২০২৬ , ১:০০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ড্যানি ওয়েলবেককে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চেলসি। ব্রাইটন ছেড়ে ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দুই বছরের চুক্তিতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দিয়েছেন। তবে দুই ক্লাবের কেউই এই দলবদলের আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করেনি।
গত মৌসুমে ব্রাইটনের হয়ে ৩৭টি লিগ ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ১৩টি গোল করেছিলেন ওয়েলবেক। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে তার চেয়ে বেশি গোল করেছিলেন মাত্র তিনজন ইংলিশ ফুটবলার।
চলতি দলবদলে চেলসির তৃতীয় সংযোজন ওয়েলবেক। এর আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্স এবং আতালান্তা থেকে মার্কো পালেস্ত্রাকে দলে নিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি।
চেলসিতে যোগ দিয়ে ওয়েলবেক বলেন, ‘চেলসির মতো একটি ক্লাব আমাকে চাইছে, এটি ভীষণ গর্বের বিষয়। দলের কয়েকজনকে আগে থেকেই চিনি। কোচের সঙ্গে দারুণ আলোচনা হয়েছে, শুরু থেকেই ভালো একটি সম্পর্ক অনুভব করছি। আমার ভেতরে এখনো সেই ক্ষুধা আছে। এই ক্লাবের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত, যাতে চেলসি এবং সমর্থকদের গর্বিত করতে পারি।’
ওয়েলবেককে দলে নেওয়ার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর দল গঠনের নীতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে চেলসি। ২০২২ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে মূলত তরুণ ফুটবলারদের দিকেই নজর ছিল তাদের। তবে এবার অভিজ্ঞতার ওপরও ভরসা রাখছে ক্লাবটি।
ওয়েলবেকের আগমনে চেলসির আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন জোয়াও পেদ্রো। এছাড়া লিয়াম ডেলাপ, ইমানুয়েল এমেঘা, মার্ক গিউ এবং নিকোলাস জ্যাকসনের মতো ফরোয়ার্ডও রয়েছেন দলে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমি থেকে উঠে আসা ওয়েলবেক ২০১৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দেন। উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিতে পাঁচ বছর কাটানোর পর ওয়াটফোর্ডে যান। সেখানে এক মৌসুম খেলে ২০২০ সালে ব্রাইটনে যোগ দেন।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৪২ ম্যাচে ১৬টি গোল করেছেন ওয়েলবেক। সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য টমাস টুখেলের ঘোষিত দলে জায়গা পাননি।
৩৫ বছর বয়সী ওয়েলবেককে দলে নেওয়া নিয়ে কিছু সমর্থকের বিস্ময় থাকলেও নতুন কোচ জাবি আলোনসোর পরিকল্পনায় তার অভিজ্ঞতা ও খেলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি শুধু গোল করতেই সক্ষম নন, সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করা, রক্ষণভাগের পেছনে দৌড় দিয়ে জায়গা তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের ওপর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকভাবে কার্যকর।
গত মৌসুমে তার ১৩টি গোল এসেছে প্রায় প্রত্যাশিত গোলসংখ্যার সমান পারফরম্যান্স থেকে, যা তার সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার প্রমাণ। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং নিয়মিত মাঠে থাকার সামর্থ্য তাকে চেলসির জন্য একটি মূল্যবান সংযোজনে পরিণত করেছে।
ওয়েলবেক হয়তো একাই চেলসির আক্রমণভাগের চেহারা বদলে দেবেন না, তবে তার অভিজ্ঞতা, নিঃস্বার্থ দলীয় খেলা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা নতুন মৌসুমে আলোনসোর দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে উঠতে পারে।















