আন্তর্জাতিক

কিশোরীর বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত দিল্লি পুলিশের

  প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১৫:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ভিডিওতে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া পুলিশের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে ওই কিশোরী জানিয়েছে যে, অন্যদের প্ররোচনায় সে ওই মন্তব্য করেছিল। ঘটনার জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়ে এটিকে জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল বলেও উল্লেখ করেছে সে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে আর মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঘটনাটি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে অভিযোগের ঘটনাটি দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়ায় মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ওই কিশোরী নিজেকে ১৫ বছর বয়সী বলে পরিচয় দিয়ে জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সে নিজে প্রকাশ করেনি এবং ঘটনার জন্য সে অত্যন্ত লজ্জিত ও বিব্রত।

ভিডিওতে সে বলে, ‘জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে আমি কনট প্লেসে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু লোককে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখি। তারা আমাকে একই ধরনের কথা বলতে উৎসাহিত করে এবং তাদের প্ররোচনায় আমিও তা বলি।’

ক্ষমা চেয়ে সে আরও বলে, ‘আমি এখন কারও চোখের দিকে তাকাতে পারছি না। দেশের সব মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। এটি আমার প্রথম এবং শেষ ভুল। ভবিষ্যতে আর কখনও এমন কাজ করব না।’

এই ভিডিও প্রকাশের আগে গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে নয়ডায় তার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।

এক্সপ্রেসওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত খাত্রি জানিয়েছিলেন, কিশোরী বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে হরিয়ানার ফরিদাবাদে বসবাস করছে। তিনি বলেন, অভিযোগটি প্রথমে জিরো এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও পরবর্তী তদন্তের জন্য সেটি দিল্লি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ শুরুতে জানিয়েছিল, জিরো এফআইআরের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে কিশোরীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে অভিযোগটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান), ৩৫৩(১) ধারা (জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী বক্তব্য) এবং ৩৫৬(১) ধারা (মানহানি)-এর আওতায় দায়ের করা হয়েছিল। তবে মামলাটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর আর কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content