প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০৫:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। আজ সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ। এরপরই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে ঢাকার তাপমাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। ধুয়েমুছে গেছে শহরের ধুলাবালি, আর গাছপালা ফিরে পেয়েছে সজীব রূপ। তবে স্বস্তির পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিপত্তিতেও পড়েছেন পথচারী ও অফিসগামী কর্মজীবীরা। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসের সকালে রামপুরা, বাড্ডা, নতুনবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়। তবে ঢাকার সব এলাকায় একযোগে বৃষ্টি হয়নি। কোথাও মুষলধারে বৃষ্টি হলেও কোথাও ছিল শুষ্ক আবহাওয়া।
এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন ছাতা ছাড়া বের হওয়া অফিসগামী, চাকরিজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে অনেকে ভিজেই পথ চলেন। আবার কেউ কেউ বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় বাসস্ট্যান্ড, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা বিভিন্ন দোকানের সামনে আশ্রয় নেন।
গণপরিবহনেও দেখা যায় একই চিত্র। জানালার পাশে বসা অনেক যাত্রী বৃষ্টির পানিতে ভিজে যান। বিশেষ করে যেসব বাসের জানালার কাচ ভাঙা ছিল বা ঠিকমতো বন্ধ করা যাচ্ছিল না, সেসব বাসে বৃষ্টির পানি ঢুকে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ছাতা সঙ্গে থাকলেও পুরোপুরি স্বস্তি পাননি অনেকেই। মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ শুকনো থাকলেও হাঁটু থেকে নিচের অংশ, জুতা ও প্যান্ট ভিজে যায় বৃষ্টির পানিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিলো ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজকে সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিলো ৮৭ শতাংশ।
বাসযাত্রী রুখসানা হ্যাপী বলেন, ছাতা এনেও ভিজে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলাম না। নিচের অংশ পুরো ভিজে গেছে। তবে কিছুটা ভোগান্তি হলেও গরমের মধ্যে এমন বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছি।
হাতিরঝিল মহানগরের বাসিন্দা অহনা নাঈম বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও হাতিরঝিল মহানগরের কোলাহল পেরিয়ে হেঁটে হেঁটেই অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি সে ভাবনায় কিছুটা ছেদ ফেলল। বৃষ্টির দিনে হেঁটে পথ চলা কঠিন, তাই হেঁটে যাওয়ার আনন্দকে পাশে সরিয়ে রেখে রিকশার হুড তুলে দিয়েই আজ কর্মস্থলের পথ ধরতে হলো।















