প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ৯:২০:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয় সময় সোমবার থেকে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। যদিও তেহরান স্পষ্ট করেছে, এই সমঝোতা আগের মতো প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য নয়।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ওমানের সঙ্গে এমন একটি নতুন নৌপথ নির্ধারণে উভয় পক্ষ ঐকমত্যের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সম্মান করবে। তবে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় কোনোভাবেই ফিরে যাবে না।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের পাশেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজ ও এর নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে এই ঘটনা কৌশলগত জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সোমবারের জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার খবরে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ধীর হয়ে গেছে। তবে একই সময়ে লোহিত সাগরে হুথিদের হুমকি উপেক্ষা করে সৌদি আরবের তেলবোঝাই দুটি ট্যাংকার বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করেছে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় চেয়েছে। তার ভাষ্য, সেই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
রোববার নিউ জার্সি থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার নির্দেশ স্থগিত রেখেছেন। তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের পরই এই সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুবরাজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আপনারা কী চান আমরা হামলা চালাই, নাকি না?” তারা হামলার চেয়ে সমঝোতাকেই বেশি পছন্দ করছে কারণ হামলার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কেউ জানে না।’
তিনি জানান, সোমবার বিকেলেই আলোচনা শুরু হবে। তবে কোথায় বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি। এছাড়া, ইরানকে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কোনো সময়সীমা আছে কি না-এ প্রশ্নেরও জবাব দেননি তিনি।
এর আগে একাধিকবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন। সর্বশেষ এই অবস্থান পরিবর্তনকে চলমান সংকটের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।





















