প্রতিনিধি ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৫:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর।
আজ শনিবার দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি লরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকসহ শ্রমিক-কর্মকর্তারা গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।
প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের এই চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালান দুপুর সাড়ে ১২টার পর রূপপুরে পৌঁছেছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাশিয়া থেকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সড়কপথে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বহরটি। যাত্রাপথে বঙ্গবন্ধু সেতু অতিক্রম করে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে এটি রূপপুরে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকাশপথে কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে নির্ধারিত বিরতি দিয়ে চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৃহস্পতিবার আসার কথা থাকলেও সময়সূচি পরিবর্তন করে শুক্রবার দুপুরে এবং পরবর্তীতে তা পুনর্নির্ধারণ করে শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকায় অবতরণ করানো হয়। সড়কপথে পরিবহনের সময় নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে এবং যানজটমুক্ত পথ নিশ্চিত করতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে সতর্কতামূলকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
নিরাপত্তার বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে। কোনো ধরনের বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সেজন্য বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশের পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।





















