সারাদেশ

বিজয়নগরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এমপি খালেদের

  শাহনেওয়াজ শাহ, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ২ মে ২০২৬ , ৯:২৯:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মাদকবিরোধী সমাবেশে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব।

শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার ছতরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মানবতার শত্রু। অর্থের লোভে তারা যেকোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, বিজয়নগরকে মাদক ও অনলাইন জুয়ামুক্ত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপে আইন প্রয়োগে শিথিলতা না দেখানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।

“মাদককে না বলুন” এই অঙ্গীকার নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং দলে তাদের কোনো স্থান নেই।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, “মাদক নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যুবসমাজকে সংগঠিত করে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কাজও চলছে।

তিনি আরও বলেন, “মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কেউ হুমকির শিকার হলে, হুমকিদাতা যত শক্তিশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আতাউল্লাহ, জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাজেদুল হাসান, র‍্যাব-৯ সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরনবীসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আরও খবর

Sponsered content