নওগাঁ প্রতিনিধি: ২ মে ২০২৬ , ৯:২১:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের চাষাবাদকৃত ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে ভুক্তভোগী শাহীনা আক্তার, তার স্বামী জাকির হোসেন ও বৃদ্ধা মা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পবাতৈড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের কারণে তারা নিজ বাড়িতেও প্রবেশ করতে পারছেন না। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার পাননি।
শাহীনা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তার বাবা শাহাদত হোসেন হেবা দলিল (নং-৪৬৯৫) মূলে বিন্দারামপুর ও পবাতৈড় মৌজায় ৫.১৯ শতক জমি তার নামে লিখে দেন। এরপর থেকে তার স্বামী জাকির হোসেন ওই জমিতে চাষাবাদ ও আমবাগান করে আসছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহীনার বড় বোন শামসুন্নাহারের মৃত্যুর পর তার মেজো বোন সান্তনাকে বিয়ে করেন দুলাভাই মামুনুর রশিদ। ২০১১ সাল থেকে জাকির হোসেন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের সেবায় সন্তুষ্ট হয়েই শ্বশুর ওই জমি লিখে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মামুনুর রশিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এসে জোরপূর্বক বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটি বাড়িছাড়া। বর্তমানে ওই বাড়িতে মামুনুর রশিদ তার শ্বশুরকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত শুক্রবার ও শনিবার ভুক্তভোগীদের দখলীয় জমির ধান মামুনুর রশিদের ভাড়াটিয়া লোকজন কেটে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন শাহীনা আক্তার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বড় বোনের মৃত্যু পরিকল্পিত ছিল এবং পরবর্তীতে তার মেজো বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করা হয়। একই সঙ্গে তার জমি দখলের চেষ্টা ও পারিবারিক ভাঙনের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে কু-প্রস্তাব ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তারা পাঁচটি আদালতের ডিক্রি পেলেও অভিযুক্তের প্রভাবের কারণে তারা নিজ জমিতে যেতে পারছেন না।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, “শাহীনা আক্তারের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে এবং বর্তমানে মহাদেবপুরে বসবাস করছেন।




















