মোঃ নুরুজ্জামান শেখ, গাজীপুর ১৬ জুন ২০২৬ , ৬:১২:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ‘মাইশা জেনারেল হাসপাতাল’-এ জরায়ুর টিউমার অপারেশনের পর সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর রোগীর জ্ঞান না ফেরাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
নিহত সেলিনা খাতুন টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মোক্তার হোসেনের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সেলিনাকে মাইশা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেয়। পরিবারের দাবি, বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসক ডা. মো. মনির হোসেন অস্ত্রোপচার করেন এবং অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমান। তবে অস্ত্রোপচারের পর সেলিনার আর জ্ঞান ফেরেনি।
নিহতের বাবা মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “অপারেশনের পর আমার মেয়ের জ্ঞান আর ফেরেনি। পরে এলাকার কিছু মানুষের চাপে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি।”
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং মৃত্যুর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “আমি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। তবে মাইশা জেনারেল হাসপাতালের কাগজপত্র ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আগামীকাল অফিসে তলব করা হয়েছে।”
অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং চিকিৎসা অবহেলার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




















