প্রতিনিধি ১৪ মে ২০২৬ , ২:২৪:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিদেশ যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তবে তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নামঞ্জুর করে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দিয়েছেন।
আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলার হাজিরার তারিখে আদালতে হাজিরা দেন আনিস আলমগীর। তার স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা ও যে কোনো সময় বিদেশ যেতে পারেন এই বিষয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। অপর আসামিরা হলেন-অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।
মামলাটিতে আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত মার্চ মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে দুদক। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার দেখান আদালত।
গত ৫ মার্চ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এবং গত ১১ মার্চ দুদকের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন আনিস আলমগীর।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।




















