আন্তর্জাতিক

মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনে স্পেসএক্সের সঙ্গে আলোচনায় গুগল

  প্রতিনিধি ১৩ মে ২০২৬ , ১২:৫৫:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

মহাকাশে কক্ষপথভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে গুগল।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্ভাব্য এই চুক্তি হলে প্রযুক্তি খাতের দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে।

‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের ধারণা নিয়ে গুগল প্রথম কাজ শুরু করে গত বছরের নভেম্বরে। অন্যদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন, স্পেসএক্স ও তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই মিলে এক মিলিয়ন কক্ষপথভিত্তিক ডেটা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল শুধু স্পেসএক্স নয়, আরও কয়েকটি রকেট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ডিজাইন ও নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি প্ল্যানেট ল্যাবসের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এবং স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক দুজনেই মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারকে ভবিষ্যতের অবশ্যম্ভাবী প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন।

এর আগে গত নভেম্বরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুন্দর পিচাই বলেন, ‘আরও এক দশক পর মহাকাশে ডেটা সেন্টার নির্মাণকে খুবই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা হবে।’

অন্যদিকে স্পেসএক্স ও এক্সএআই একত্রিত হওয়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে ইলন মাস্ক জানান, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটিং শক্তি তৈরির সবচেয়ে সস্তা উপায় হবে স্যাটেলাইট।’

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই পরিকল্পনার বাস্তবতা নিয়ে এখনও সন্দিহান। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মহাকাশে বৃহৎ পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসেসিং পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

তাদের মতে, স্যাটেলাইটে ব্যবহৃত জিপিইউ বা প্রসেসরগুলোকে মহাজাগতিক বিকিরণের মধ্যে কাজ করতে হবে, যা ত্রুটিমুক্ত গণনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া মহাশূন্যের প্রায় শূন্যচাপ পরিবেশে তাপ ধীরে ধীরে বিকিরণের মাধ্যমে বের হওয়ায় সেখানে তাপ অপসারণও অত্যন্ত জটিল।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে লাখ লাখ স্যাটেলাইট স্থাপন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশযানের নিরাপদ চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মহাকাশ অভিযানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

আরও খবর

Sponsered content