প্রতিনিধি ১৩ মে ২০২৬ , ১১:১০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে পৃথক চুক্তি করেছে ইরাক ও পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার বলেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে এমন একটি অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যেখান থেকে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দর অবরোধ করে রেখেছে। যদিও শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল, এখন তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।
ক্লদিও স্টয়ারের ভাষায়, ‘হরমুজ এখন আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, এটি নিয়ন্ত্রিত করিডরে পরিণত হয়েছে।’
ইরাকের বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়েই রপ্তানি হয়। ফলে প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। অন্যদিকে পাকিস্তানও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে আগে প্রকাশ না হওয়া এক সমঝোতার আওতায় গত রোববার ইরাকের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাগদাদ। কারণ দেশটির বাজেটের প্রায় ৯৫ শতাংশ আয় আসে তেল রপ্তানি থেকে।
তিনি বলেন, ‘ইরাক ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই ইরাকের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির প্রভাব ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থেও পড়বে।’
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা ও জাহাজ চলাচল খাতের একটি সূত্রও তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও আলাদা একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প খাতের দুটি সূত্র। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পর কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার বর্তমানে পাকিস্তানের পথে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি মাসে পাকিস্তানে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো পৌঁছাত। বর্তমানে গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশটির জ্বালানির প্রয়োজনও বেড়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইরাক বা পাকিস্তান কেউই ইরান বা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে সরাসরি কোনো অর্থ দেয়নি।
এছাড়া কাতার সরাসরি এসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অংশ না হলেও পাকিস্তানে জ্বালানি পাঠানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।








