প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ , ৯:১২:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো এবং যুদ্ধ বন্ধে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জি-৭ নেতাদের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ড সীমান্তের কাছে ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা করার প্রয়োজন, তাই করব।’ তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই অনেক তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার একটি চুক্তিতে আসা উচিত। আমি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি। এটি ছিল সেই যুদ্ধ, যেটি সমাধান করা সবচেয়ে সহজ হবে বলে আমি ভেবেছিলাম।’ তবে তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এ দাবি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।
মঙ্গলবার সকালে জেলেনস্কি জি-৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। জি-৭ জোটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়াই প্রধান লক্ষ্য, যাতে রাশিয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। শান্তি প্রয়োজন।’
তিনি জানান, জি-৭ দেশগুলোর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। জেলেনস্কি লেখেন, ‘আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলো উৎপাদনের লাইসেন্স, শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়াকে বুঝতে হবে, তাদের এই যুদ্ধ কখনোই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। যারা আমাদের সহায়তা করছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক্সে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের পক্ষে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ২০২৬ সালের বাস্তবতা ২০২৫ সালের তুলনায় অনেক ভিন্ন। ইউক্রেন সাহসিকতার সঙ্গে সামনের সারিতে অবস্থান ধরে রেখেছে। রাশিয়ার ক্লান্তি এখন স্পষ্ট। এটাই আমাদের সমর্থন আরও জোরদার করার সময়।’
হরমুজ প্রণালি নিয়েও আলোচনা
জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তিচুক্তি নিয়েও আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং এই জলপথ এড়িয়ে বিকল্প জ্বালানি পরিবহন রুট চিহ্নিত করার বিষয়েও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, অগ্রাধিকার হলো একটি‘দৃঢ়, গুরুতর এবং চূড়ান্ত’ চুক্তি নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় চালু করতে ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা অংশীদার দেশগুলো ‘খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দ্রুত সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগের পক্ষে কাজ করছে।
ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত’ হবে। সেদিনই জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে জটিল আলোচনাগুলো সম্পন্ন করা যায়। এসব আলোচনার মধ্যে থাকবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ‘আসলে আরও সহজ হবে’ বলে তিনি মনে করেন।





















