প্রতিনিধি ৭ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:০৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণে অন্তত অর্ধশত শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব শিশুকে নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটেছেন স্বজনেরা। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টেকনাফে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দ্বীপের সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমবিবিএস চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ওই দিন ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে। পরে তাদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মসূচির দুই দিন পর গতকাল খতনা করানো শিশুদের মধ্যে একের পর এক অসুস্থতার খবর আসতে থাকে। ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের পাশাপাশি রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকেরা। একপর্যায়ে অন্তত ৫০ শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতাল সূত্র জানায়, অসুস্থ শিশুদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।
তবে নৌযান না পাওয়ায় একজন শিশুকে টেকনাফে নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার স্বজনেরা।
সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো প্রায় ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। অনেকের ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুইজন শিশুর অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।’
অসুস্থ শিশুদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর পর থেকেই শিশুদের ক্ষতস্থানে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমে ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও পরে কারও কারও ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের হওয়া ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিস্থিতির খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নিতে বাধ্য হন স্বজনেরা।
দ্বীপের বাসিন্দা কবির আহমেদের ছেলে আইনুল ইসলামের বয়স ৯ বছর। দুই দিন আগে ওই মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে ছেলের খতনা করিয়েছিলেন তিনি।
কবির আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে ওষুধও দিয়েছি। এরপরও তার এমন অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ধারণা করছি, হয়তো ভুল চিকিৎসা হয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ট্রলার না পাওয়ায় ছেলেকে টেকনাফের হাসপাতালে নিতে পারছি না।’
খবর পেয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল গিয়ে অসুস্থ শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে।
খতনা করানোর সময় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সতর্কতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করানোর ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ‘খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা শুনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক দলের গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





















