প্রতিনিধি ৭ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:০২:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় দুটি দোকানে হামলা ও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুলিশ সার্কেল অফিসের সামনে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শনির হাওর এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে পুলিশ, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর চেষ্টায় সংঘর্ষ থামে। তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত বীরনগর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আশিকনুর, আলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ও মাইনুদ্দিনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহা হাটি (মধ্য তাহিরপুর) গ্রামের মো. হারুন অর রশিদ (৫২), বাকারুল মিয়া (৫০), আজিম মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩০), আবুল কালামসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে বীরজয়-লক্ষী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চার গ্রাম—বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর ও ধুতমা—এর লোকজনের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুরের ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত রোববার রাতে তাহিরপুর বাজারে একই বিষয় নিয়ে ধুতম গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়নগর ও বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকিং করে বুধবার সকালে গ্রামের সবাইকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা সংঘর্ষের শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’





















