প্রতিনিধি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:০২:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা: কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান-এর ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পোস্টটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং ওই পোস্ট দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এই দাবির কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে স্বল্প সময়ের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। সেই সময়েই বিতর্কিত পোস্টটি করা হয়। দলটি আরও জানায়, বিষয়টি নজরে আসার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণ থেকে উদ্ধার করা হয়।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়—
হ্যাকিংয়ের চেষ্টা শনাক্ত হলে এক্স কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ইমেইলে সতর্কবার্তা পাঠায়
সন্দেহজনক আইপি শনাক্ত হলে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে লক করা হয়
অ্যাকাউন্টধারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য চাওয়া হয়
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেস ভেরিফিকেশন (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ) করা হয়
সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর রিসেট লিংকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ফেরত দেওয়া হয়
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ প্রক্রিয়ায় একটি হ্যাক হওয়া এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে—
এই বাস্তবতায়, মাত্র ৪৫ মিনিটে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দাবি প্রযুক্তিগতভাবে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা—যদি না অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই শক্তিশালী নিরাপত্তা সেটিংস (যেমন হার্ডওয়্যার কী বা প্রি-ভেরিফায়েড ব্যাকআপ) সক্রিয় থাকে। তবে সে ধরনের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি তোলায় প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কর্মজীবী নারীদের অবমাননার অভিযোগ তুলে ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভও করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী নেতৃত্ব সম্ভব নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ডা. শফিকুর রহমান। ফলে এক্স পোস্টটি হ্যাকের ফল নাকি মতাদর্শগত অবস্থানের প্রতিফলন—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, হ্যাক হওয়ার দাবি পুরোপুরি নাকচ করা না গেলেও, দ্রুত আইডি উদ্ধার সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এক্স কর্তৃপক্ষ বা নিরপেক্ষ ডিজিটাল ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা সম্ভব নয়।




















