আল-আমিন হাসান, নিকলী প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬ , ২:১১:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য এবং বর্ষার নতুন পানির আকর্ষণে প্রতি বছরই কিশোরগঞ্জের নিকলী হয়ে ওঠে ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম গন্তব্য। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন নিকলী হাওর ও বেড়িবাঁধ এলাকায়। তবে পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই বেড়িবাঁধে জমে থাকা খড়, গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তাদের সংরক্ষিত খড় ও গোবর নিরাপদ স্থানে রাখার উদ্দেশ্যে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে সরিয়ে আনেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অপসারণ না করায় বর্তমানে পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার পানিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি নতুন রূপ ধারণ করেছে। বেড়িবাঁধজুড়ে পর্যটকদের পদচারণা, নৌভ্রমণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা খড়, গোবর ও ময়লা-আবর্জনা পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কিশোরগঞ্জ সদর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রাব্বি বলেন, “নিকলী হাওরের সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য। বর্ষার নতুন পানিতে চারপাশের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে। কিন্তু কিছু স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবির বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের খড়কুটো ও অন্যান্য সামগ্রী সাময়িকভাবে বেড়িবাঁধে রেখেছিলেন। বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। তবে বর্তমানে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও পর্যটনের স্বার্থে এসব বর্জ্য দ্রুত অপসারণ জরুরি।”
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কথা উল্লেখ করে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “নিকলী হাওরে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছি।”
তিনি আরও জানান, গত ২০ মে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান নিকলী বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নৌকার মাঝি, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “নিকলী হাওরের পর্যটন সম্ভাবনা সংরক্ষণে প্রশাসন আন্তরিক। বেড়িবাঁধের সৌন্দর্য রক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় হাওরভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিকলীর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যটন এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে নিকলী হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাও আরও সমৃদ্ধ হবে।





















