নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:০০:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ১১ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন কড়াইল বস্তির পূর্ব পাশের লেকপাড়ের ‘মাটির রাস্তা’ এখন মাদক কারবারের অন্যতম স্পট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যেই সেখানে মিলছে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনানী ও আশপাশের এলাকায় এভাবে প্রকাশ্যে ও সহজে মাদক বিকিকিনি আগে দেখা যায়নি। তাঁদের দাবি, কড়াইল বস্তি ঘেঁষা ওই এলাকায় নতুন কেউ গেলেও সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করতে পারছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেভাবে প্রকাশ্যে মাদকের কেনাবেচা চলত, ‘মাটির রাস্তা’ এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা সেখানে আসছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই মাদক স্পটের প্রভাব শুধু কড়াইল বস্তিতে সীমাবদ্ধ নেই; বনানী, গুলশান ও আশপাশের এলাকার তরুণ-যুবকদের মধ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
লেকঘেঁষা অবস্থানের কারণে মাদক কারবারিরা নৌপথ ব্যবহার করে মাদক সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নৌপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলাচল কিংবা দ্রুত স্থান ত্যাগ করা সহজ হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কড়াইল বস্তির ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান মাঝে-মধ্যে হলেও ‘মাটির রাস্তা’ এলাকায় তেমন অভিযান চোখে পড়ে না। এ কারণে এলাকাটি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বনানীর এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বনানীর মতো এলাকায় এত সহজে ও প্রকাশ্যে মাদক বিকিকিনি হবে, তা আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সন্তানরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কড়াইল বস্তির ভেতরে অভিযান হলেও মূল স্পট ‘মাটির রাস্তা’ যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ‘মাটির রাস্তা’ কেন্দ্রিক মাদক কারবারের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত বিশেষ চিরুনি অভিযান চালানো হবে। কোনো মাদক কারবারি বা তাদের নেপথ্যে থাকা কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, ‘লেকের নৌপথ ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের তথ্যটি নতুন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই কড়াইল লেকপাড় ও মাটির রাস্তা এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এর প্রভাব বনানী-গুলশানসহ আশপাশের এলাকার তরুণ প্রজন্মের ওপর আরও বাড়তে পারে। তাঁদের দাবি, ‘মাটির রাস্তা’ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





















