প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:০২:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলোকে পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিরানী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। পরিদর্শনের সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে অবৈধ দখল রোধের পাশাপাশি পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং নগরবাসীর জন্য চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার প্রক্রিয়া তদারকিতে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, “আমরা একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চাই। তবে নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; ঢাকাবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলোতে ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সামগ্রিক রূপান্তরের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।
৮৯৮.৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৩.৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালের পাশাপাশি চার খালের মোট ২০.৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন, সীমানা নির্ধারণ, ৩২.৪৪ কিমি ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ১,৫৮৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছে।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















