সারাদেশ

দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি

  মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ৫ জুন ২০২৬ , ৪:১৬:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কথিত অবৈধ নাগরিকদের পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকাকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে বিজিবি বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ও নদীপথগুলোতে দিবা-রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করতে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে নাইট ভিশন গগলস, ড্রোন ও বাইনোকুলারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের ওপরও বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করছে এবং সীমান্ত অতিক্রম না করার আহ্বান জানাচ্ছে।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ছোট ছোট সতর্কতামূলক দলও গঠন করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়।
বিজিবির মতে, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জনসচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডাররাও নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। জনগণ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগই সীমান্ত সুরক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বাহিনী সর্বদা সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content