প্রতিনিধি ৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১৩:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর সীমান্তঘেঁষা মেঘনা নদীতে সব ধরনের মৎস্য শিকার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে এই সময়ে ইলিশ পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, মজুত ও বিপণন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের প্রধান অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সীমানায় মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সরকারি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড যৌথভাবে নদীতে ২৪ ঘণ্টা তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করবে। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রার সহযোগিতায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমলনগর উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, উপজেলায় নিবন্ধিত ১১ হাজার ৫০০ জন জেলের প্রত্যেকের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ২৮৭.৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে কমলনগরে নিবন্ধিত জেলেদের শতভাগই এ সহায়তার আওতায় আসবেন।
অন্যদিকে রামগতি উপজেলায় নিবন্ধিত ২৬ হাজার ২৭৫ জন জেলের মধ্যে ১৮ হাজার জেলের জন্য ৪৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় আপাতত ৮ হাজারেরও বেশি জেলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কাউকে একদম বঞ্চিত না করে বরাদ্দকৃত চাল নিবন্ধিত সব জেলের মধ্যে সুষমভাবে সমন্বয় করে বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান।
কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা ও রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান জানান, মা ইলিশ রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীপথে সার্বক্ষণিক নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের টহল থাকবে। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলেদের কাছে খাদ্য সহায়তার চাল পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।





















