সারাদেশ

মান্দায় গ্রাম আদালতে দ্রুত বিচার, আস্থা বাড়ছে সাধারণ মানুষের

  মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:১৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ


নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দ্রুত বিচার ও বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত। পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ এখন ঘরের কাছেই মীমাংসা হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে।

থানা-পুলিশ বা জেলা সদরের কোর্ট-কাচারিতে না গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদেই নামমাত্র খরচে বিচার পাওয়ায় সময় ও অর্থ—দুইই সাশ্রয় হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। এতে বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলার ৫ নম্বর গণেশপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত স্বল্প ফিতে সহজেই মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তিও মিলছে।

কাঞ্চন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে তিনি গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হন।
“খুব অল্প সময়েই এবং প্রায় বিনা খরচে সমস্যার সমাধান পেয়েছি। আগে এসব নিয়ে কোর্টে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো,” বলেন তিনি।

জানা গেছে, প্রতি বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বসে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি মামলা শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ইউনিয়ন সচিব ও সদস্যদের নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তবে চেয়ারম্যানের এই জনপ্রিয়তা ঘিরে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, “সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা মানুষের দোরগোড়ায় বিচারিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। একটি মহল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে অপপ্রচার চালালেও আমরা জনগণের সেবায় কাজ চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালতের পাশাপাশি এই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি-ভিজিএফসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও খবর

Sponsered content