মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ২৩ জুন ২০২৬ , ৮:৩১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মহাদেবপুরে ২ শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ১০ মাস পর এক শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তিন বছর বয়সী শিশু নাঈমের মরদেহ উত্তোলন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, এটি সাধারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, একটি কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে প্রতিশোধ নিতে শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ জুলাই স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিহত নাঈমের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগীরা নাঈমের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, ওই ঘটনার জেরে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সকালে নাঈম ও তার খেলার সাথী পাঁচ বছর বয়সী আরাফাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, উদ্ধারের সময় নাঈমের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুর কোনো আলামত শরীরে ছিল না।
ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলাটি প্রথমে পিবিআই তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের উপস্থিতিতে সিআইডি, থানা-পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাঈমের মা বলেন, “আমার সন্তানদের যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমরা গরিব বলে কি ন্যায়বিচার পাব না?”
লাশ উত্তোলনের খবরে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
/














