প্রতিনিধি ২১ মে ২০২৬ , ১১:৩২:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশের হাতে আটক অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গতকাল বুধবার নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি বৃহত্তর ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ কাঠামোর অংশ।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ় তথ্য জানা যায়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় থাকা সম্প্রদায়ের মানুষ এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবেন। তবে আইনের আওতায় না থাকা ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে একটি চিঠি দিয়েছিল, যেখানে আটক অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার তা কার্যকর করেনি। আমরা এখন সেই ব্যবস্থা চালু করেছি।’
এ সময় বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সিএএ বিরোধিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘একদিকে তারা সিএএর বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাও কার্যকর করেনি। আজ আমরা সেটি বাস্তবায়ন করছি।’
শরণার্থী ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, ‘সিএএর আওতায় থাকা সম্প্রদায়ের নাম আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন, তারা সুরক্ষিত থাকবেন এবং পুলিশ তাদের আটক করতে পারবে না।’
সিএএর আওতায় থাকা সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগে পালিয়ে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই আইনের আওতায় পড়েন না, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য পুলিশ তাদের আটক করবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।’
তিনি আরও জানান, বিএসএফ পরে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আজ থেকেই এই আইন কার্যকর করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, রাজ্যের ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সীমান্তবর্তী থানাগুলোতে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।




















