সারাদেশ

রাণীশংকৈলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে পরিবার

  হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ২১ মে ২০২৬ , ৯:৩৬:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের নয়নপুর কলোনী পাড়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রীসহ পরিবারের সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

গত বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়নপুর কলোনী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রান্নার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায় পুরো বসতঘর।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিছানাপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও খাদ্যসামগ্রীসহ সবকিছু পুড়ে যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লাইনের পাইপে লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মো. দুলাল হোসাইন (৫৯) ওই এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে থাকায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুলাল হোসাইন বলেন,
“চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো, কী খাবো কিছুই বুঝতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাই।”

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতিজা বেগম বলেন,
“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ত্রাণ শাখা থেকে তাৎক্ষণিক কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করে আরও প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, অসহায় পরিবারটির পাশে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন, যাতে আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারটি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content