ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ২১ মে ২০২৬ , ৯:৩৩:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং ফার্মেসি মালিককে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ভিডিও ঘিরে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও সামনে এসেছে।
গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত যমুনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট তাসলিমা আক্তারের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে লিপি বেগম, জামাল মিয়া, আতিক, কাউছার, জাকির ও খায়েরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসলিমা আক্তারের দাবি, হাসপাতালের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোয় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ফার্মেসি মালিক জামাল মিয়া। তার দাবি, প্রথমে তার ভাগনিকে থাপ্পড় মারেন তাসলিমা আক্তার এবং পরে তাকেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় তিনিও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার মিয়া দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্পাদিত ভিডিও ব্যবহার করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাসলিমা আক্তারকে ফার্মেসি মালিককে মারধর করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত ও সরিয়ে নেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে শোনা যায়। এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





















