আবুল কাশেম রুমন, সিলেট ব্যুরো: ২১ মে ২০২৬ , ৫:৫২:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটে হঠাৎ করেই ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে ডিমের দাম। ব্যবসায়ীদের একাংশ ডিমের সংকটের কথা বললেও ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের বন্দরবাজার, সুবিদবাজার, শিবগঞ্জ এবং দক্ষিণ সুরমার কদমতলীসহ বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
সাধারণ ক্রেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার মধ্যে ডিমের মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
নগরীর বন্দরবাজারের বড় দোকানগুলোতে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। আবার কিছু এলাকায় এ দাম ১৭০ টাকাও ছাড়িয়েছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ডিমের চাহিদা বাড়ার কারণে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হয়। তবে এবারের দাম বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক এবং তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
২০২২ সালেও ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) তদন্তে নামে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কমিশন এজেন্টদের মাধ্যমে বাজারে মূল্য কারসাজি করা হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিম উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ৪৪০ কোটিরও বেশি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি ডিম উৎপাদন হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন,
“করপোরেট কোম্পানি ও তাদের নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে ডিমের দাম বাড়িয়েছে। গত মাসে কম দামে প্রচুর ডিম মজুত করা হয়েছে। এখন অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই বাড়তি দামের কোনো সুফল প্রান্তিক খামারিরা পাচ্ছেন না।
ডিম মজুত প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পুরোনো ও নতুন ডিম পর্যায়ক্রমে সংরক্ষণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে ডিমের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার তদারকির অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
তিনি বলেন,“ডিমের বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। কিন্তু বাজার তদারকিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।”
বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. তাহির আহমেদ সিদ্দিকী জানান, দেশের দৈনিক চাহিদা মেটাতে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি ডিম প্রয়োজন হয়। এর বড় অংশ আসে বাণিজ্যিক খামার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন থেকে, আর বাকি জোগান আসে প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে।
ডিমের বাজারে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।




















