জাতীয়

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর দাবি, গণশুনানিতে ভোক্তা স্বার্থে জোর

  স্টাফ রিপোর্টার: ২১ মে ২০২৬ , ৭:২০:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ


বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ভোক্তাদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ না দিয়ে ব্যয় কমানোর কার্যকর উপায় খোঁজার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন অংশীজন। বক্তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে দেখা যাবে না। ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, প্রকল্প ব্যয় এবং অদক্ষতার দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো অনুচিত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের গণশুনানির শেষ দিনে খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত শুনানিতে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো এবং নেসকো তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির তথ্যমতে, বিতরণ সংস্থাগুলো প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিতরণ ব্যয় ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কমিটির হিসাবে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের গড় নিট বিতরণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট নিট বিতরণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতের হিসাব উপস্থাপনায় একসঙ্গে কোটি ও মিলিয়ন ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দামে রেট অব রিটার্ন ও করপোরেট কর যুক্ত করার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে কীভাবে তা কমানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি দাম কমানোর বাস্তব পরিকল্পনাও থাকতে হবে। অতিরিক্ত সক্ষমতার জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বড় শিল্প গ্রাহকরা নিজেদের অর্থায়নে অবকাঠামো তৈরি করার পরও অতিরিক্ত চার্জ বহন করছেন, যা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত, তথ্য ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের যেকোনো প্রকল্প কমিশনের মতামত ছাড়া অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে না।

তিনি আরও বলেন, “কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ। আমরা এ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হব না।”

আরও খবর

Sponsered content