ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ২১ মে ২০২৬ , ৭:৪৮:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে নারীদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত মহিলা বিপনি বিতানের দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র ভাড়ায় পরিচালিত দোকানগুলো নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
জানা গেছে, ত্রিশাল পৌরসভার চকবাজার এলাকায় অবস্থিত মহিলা বিপনি বিতানের আওতায় মোট আটটি দোকান রয়েছে। শুরুতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরে নারী উদ্যোক্তার অভাবে অপেক্ষাকৃত নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগারে মাসিক মাত্র ৩০০ টাকা জমা হলেও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি অল্প সময়ের নোটিশে দোকান খালি করার নির্দেশ দেয় পৌর প্রশাসন। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ আদায়ের শর্তে তিন দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ার কথা বলে পরে পছন্দের ব্যক্তিদের সক্ষমতার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, দোকানগুলোর মধ্যে একটি দোকান ব্যবসায়ী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরের বাবার নামে বরাদ্দ ছিল। তারা প্রায় ২০ বছর ধরে নির্ধারিত ভাড়ায় দোকানটি ব্যবহার করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমায়ুন কবির লিখেছেন, “১৭ বছরের আন্দোলন, মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের পুরস্কার হিসেবে আমার পেটে লাথি দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী লুৎফুল ইসলাম বলেন, “আটটি দোকানের মধ্যে দুইটি আগেই দরপত্রের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বাকি ছয়টি তিনবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সক্ষমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দোকানের জন্য এক লাখ টাকা এবং একটি দোকানের জন্য দেড় লাখ টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।




















