সারাদেশ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

  সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ২০ মে ২০২৬ , ৩:০৮:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া একাধিক প্রার্থী এসব অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লিখিত, ব্যবহারিক, শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই করা হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করে প্রভাব ও পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন প্রার্থীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২৪ জন শিক্ষক, ৩ জন কর্মকর্তা এবং ১২ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে আবেদন জমার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণত আবেদনের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়া আবেদনের শেষ সময় ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও পরদিন থেকেই ঢাকায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের কথা থাকলেও এত অল্প সময়ে তা সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলেছে এবং ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সিন্ডিকেট সভার পরদিনই ১৯ জন শিক্ষককে যোগদান করানো হয়। এতে ঘুষ, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ওঠে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, “চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে অস্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক।”

অন্য প্রার্থী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত।”

শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, নতুন নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তে বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।

আরও খবর

Sponsered content