রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন উত্তর কেল্লাবন্দ সিও বাজার বানিয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের যৌতুক নির্যাতনের জেরে মোছা. রুবাইয়াত জাহান (২১) শ্বশুরের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ঘটে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুন পারিবারিকভাবে খান মোহাম্মদ লাব্বাইক (৩০)-এর সঙ্গে রুবাইয়াতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি লাভলী বেগম ও ননদ লুতফিয়াতুজ জান্নাত সুম্মার পক্ষ থেকে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঢাকায় অবস্থানকালে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। তাকে নিয়মিত মারধর, মানসিকভাবে নির্যাতন এবং বিভিন্নভাবে অপমান করা হতো। এক পর্যায়ে স্বামী ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তা দিতে না পারায় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি কোতোয়ালী মেট্রো থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করা হয়। তবে তারা এখনো পলাতক রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, মামলার পর শ্বশুর লিয়াকত আলী খান (৫৫) বাড়িতে ফিরে এসে সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। এ খবর পেয়ে গত ১৪ এপ্রিল রুবাইয়াত শ্বশুরবাড়িতে গেলে লিয়াকত আলী তার ওপর হামলা চালান এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়।
পরে রুবাইয়াতের বাবা বাদী হয়ে একই থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় লিয়াকত আলী খানকে প্রধান আসামি করা হয়। পরদিন ১৫ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটলেও আসামিপক্ষ ভিন্ন তথ্য দিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।