হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা ২ জুন ২০২৬ , ৬:১২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া গ্রামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মিতু আক্তারের (২০) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত মিতু আক্তার সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আরাজি রামপুর গ্রামের দেবারু মোহাম্মদের মেয়ে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে স্বামীর বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় মিতুকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা দেবারু মোহাম্মদ বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিতুর স্বামী শাহিনুর রহমান (চান্দু), শ্বশুর মো. মুসলিম উদ্দীন ও শাশুড়ি মোছা. সাহেরা খাতুনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে শাহিনুর রহমানের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে টাকা চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় এবং এতে শ্বশুর-শাশুড়িও অংশ নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বামীর পরিবার। তাদের দাবি, অসুস্থ হয়ে পড়লে মিতুকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহতের বাবা দেবারু মোহাম্মদ বলেন, “আমার মেয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।”
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। সোমবার (১ জুন) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, “পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে ময়নাতদন্তে বিলম্ব হয়েছে।”
বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি শাহিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার দায় নির্ধারণ করা হবে।




















