রংপুর ব্যুরো অফিস : ২ জুন ২০২৬ , ৫:৩২:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
জমি ক্রয়-বিক্রয়ে সরকারি রাজস্ব আদায় এবং দলিল সম্পাদনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাব-রেজিস্টার। অথচ লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলায় পাঁচটি সাব-রেজিস্টার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস থাকলেও কর্মকর্তা সংকটের কারণে অধিকাংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনো কোনো কার্যালয়ে দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ বছর ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্টার নেই।
পাটগ্রাম উপজেলা সাব-রেজিস্টার পদটি প্রায় ৯ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সাব-রেজিস্টার রতন অধিকারীর বদলির পর সেখানে আর কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে একদিন পাটগ্রাম অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বও পালন করছেন।
এদিকে সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার আহসান হাবিব গত ২৮ এপ্রিল বদলি হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। একই সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্টারও বদলি হন। অন্যদিকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিসিএস ক্যাডারে নির্বাচিত হয়ে হাতীবান্ধা উপজেলার সাব-রেজিস্টার আরিফ ইশতিয়াক অন্যত্র যোগদান করলে সেখানেও পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।
জেলার একমাত্র পদায়নকৃত সাব-রেজিস্টার আদিতমারী উপজেলার শিউলী খাতুন বর্তমানে দুই মাসের প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে কার্যত জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই স্থায়ী কর্মকর্তাশূন্য অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার কামরুন নাহার আদিতমারী, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম হাতীবান্ধা এবং রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সাব-রেজিস্টার রিপন চন্দ্র মণ্ডল কালীগঞ্জের তুষভান্ডার অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাব-রেজিস্টার না থাকায় অনেক সময় দলিল সম্পাদনের জন্য এসে ফিরে যেতে হয়। কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন। ওই দিন দাতা বা গ্রহীতার কেউ উপস্থিত থাকতে না পারলে আবারও অপেক্ষা করতে হয়। এতে জমি বিক্রির অর্থে চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়ছেন।
তাদের অভিযোগ, সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ একদিনে সম্পন্ন করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে দলিল যাচাই-বাছাইয়ে ভুলের আশঙ্কাও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় দলিল নিবন্ধন, নকল সরবরাহ, পুরোনো দলিল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ও কমে যাচ্ছে।
দ্রুত শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জেলার পাঁচটি কার্যালয়েই বাইরে থেকে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সাব-রেজিস্টার পদায়নের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। দ্রুত পদায়ন হলে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।”




















