আন্তর্জাতিক

মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা

  প্রতিনিধি ১৮ জুলাই ২০২৬ , ১:৩৯:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম রাতের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শনিবার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্র এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান না থাকায় তারা পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে আরও হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

এদিকে কুয়েতের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। টানা দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন স্থাপনায় হামলার ঘটনা। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা টানা সপ্তম দিনের অভিযানে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ কার্যকর করার দাবি করলেও ইরান জানায়, তাদের নৌ চলাচলবিষয়ক নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এক সপ্তাহ আগে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের সীমা পরীক্ষা করে চলেছে। ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

আরও খবর

Sponsered content