সারাদেশ

জমি বিরোধে সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ভূরুঙ্গামারীতে

  ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২০ মে ২০২৬ , ১০:০০:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বসতভিটার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান উপজেলার ৩নং তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সংগ্রাম, ডেইলি কান্ট্রি টুডেবিডি২৪লাইভ ডটকম-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার যুগ আগে সাংবাদিক মনিরুজ্জামানের পরিবার ১৯ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসতি স্থাপন করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার আলমগীর হোসেন ও তার ভাই আল আমিন ওই জমির একটি অংশ দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের পুকুরের পাড় ভেঙে প্রতিবছর তাদের জমির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পরবর্তীতে পুকুর ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জমি দখল করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

গত বছরের অক্টোবর মাসে জমির সীমানা নির্ধারণে বেসরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপা হলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ও জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে।

সর্বশেষ গত ১৭ মে উভয় পক্ষের ছয়জন সার্ভেয়ার জমি পরিমাপের কাজ করেন। তবে সিদ্ধান্ত জানানোর সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সার্ভেয়াররা স্থান ত্যাগ করেন।

সাংবাদিক মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাড়ির ভিটার প্রায় দুই শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখা হয়েছে। জমি ফেরত চাইলে তারা আমাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় এবং বড় ভাইকে মারধর করে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ২৮ মার্চ ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিলাই ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার সালিশে গিয়েছি। তবে অভিযুক্ত পক্ষের আচরণের কারণে সমাধান সম্ভব হয়নি।”

ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ওসমান গণি জানান, পুনরায় মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এক পক্ষ রাজি হয়নি। পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক বলেন, “সংবাদকর্মীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর অবস্থান নেবে।”

৩নং তিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।”

আরও খবর

Sponsered content