প্রতিনিধি ২০ মে ২০২৬ , ১২:২২:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে এই মহাযজ্ঞ ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়লেও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ভারতের কোটি কোটি ফুটবলভক্ত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে হতাশা বাড়ছে দর্শকদের মধ্যে।
বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সব ধরনের মাধ্যম মিলিয়ে ৭৪ কোটিরও বেশি ভারতীয় দর্শক খেলা উপভোগ করেছিলেন। দর্শকসংখ্যার দিক থেকে চীনের পরেই ছিল ভারতের অবস্থান। শুধু টেলিভিশনেই প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বিশ্বকাপ দেখেছিলেন, যা জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যায়।
ডিজিটাল মাধ্যমেও ভারতীয় দর্শকের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। শুধু ফাইনাল ম্যাচেই একটি জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ দর্শক খেলা দেখেন। পুরো আসরে সেই প্ল্যাটফর্মে দেখা হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি মিনিটের কনটেন্ট।
আগের বিশ্বকাপগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ঘনিয়ে এলেও ভারতের মতো বিশাল বাজারে এখনো কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তবে সময়ের পার্থক্যকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সময়ের ব্যবধান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা হওয়ায় অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে গভীর রাতে।
বিনিয়োগ বিশ্লেষক করণ তৌরানি বলেছেন, ‘ভারতে টেলিভিশনমাধ্যম এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে মূল আয় আসে ডিজিটাল মাধ্যম থেকে।’
তার মতে, ‘মূলত ভারতের ক্রীড়াবাজার নিয়ন্ত্রণ করে ক্রিকেট। যারা ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা দেখে, তাদের অল্প অংশই ফুটবল বিশ্বকাপ দেখবে। গভীর রাতে খেলা হওয়ায় দর্শকসংখ্যা আরও কমে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দর্শক কমে গেলে সম্প্রচারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহও কমে যায়। পাশাপাশি অনলাইন বাজিভিত্তিক কিছু অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ায় ক্রীড়া বিনোদন খাতে অর্থের প্রবাহও কমেছে।’
এদিকে সম্প্রচার চুক্তি না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উচ্চ আদালতে এ নিয়ে একটি রিট আবেদন শুনানি চলছে। আদালত দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে জবাবও চেয়েছে।
একজন আইনজীবী ও ফুটবলভক্ত তার আবেদনে বলেছেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লাখো ভারতীয় নাগরিক বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।’ সম্প্রচার অনিশ্চয়তা বিশ্বকাপ ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনায় ভাটা ফেলছে। শেষ পর্যন্ত কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না এলে সবার নজর থাকবে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দিকে।




















