খেলাধুলা

রাজনৈতিক পরিবর্তনে নিস্তব্ধ শোক দিবস

  প্রতিনিধি ১৫ আগস্ট ২০২৫ , ২:০৯:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

আজ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ ১৮ জন প্রাণ হারান। বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদও হত্যাকারীদের হাতে শহীদ হন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বড় পরিবর্তন

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫ আগস্ট দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হতো, সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হতো, দেশজুড়ে শোকসভা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হতো। কিন্তু গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শোক দিবসের সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করেছে, একই সঙ্গে ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটিও তুলে দিয়েছে।

সরকারের কঠোর অবস্থান

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত ১০ আগস্ট ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের বলেন, “১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, এটি দুঃখজনক। তবে আগস্টের অন্য ৩১ দিনের মতোই এই দিন। কেউ ধানমণ্ডিতে বা অন্য কোথাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কোনো ধরনের শোক বা সমাবেশ অনুমোদন দেবে না।

নিস্তব্ধ ঢাকা ও সারাদেশ

পূর্বের বছরগুলোতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার জন্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ভোর থেকে জনস্রোত দেখা যেত, তবে এ বছর সেই প্রাঙ্গণ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা ও শূন্যতা বিরাজ করছে। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে নেই শোকের ব্যানার-পোস্টার, নেই সরকারি-বেসরকারি ভবনে কালো পতাকা। সামাজিক মাধ্যমেও রাজনৈতিক চাপ ও নজরদারির কারণে কর্মসূচি প্রচারের প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে।

ইতিহাস বনাম বর্তমান বাস্তবতা

১৯৭৫ সালের এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়, যা স্বাধীনতার স্বপ্নভঙ্গ ও দীর্ঘ সামরিক শাসনের সূচনা করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিহীন একটি তারিখে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি স্বীকৃতি না থাকলেও এ দিনের তাৎপর্য মুছে যাবে না, তবে প্রকাশ্যে স্মরণ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

আরও খবর

Sponsered content