সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ , ৪:২২:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ৪নং বড়খাপন ইউনিয়নের কাগজীপাড়া গ্রামের অসহায় যুবক সুজন সরকার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত এই তরুণের পাশে দাঁড়ানোর মতো নেই কোনো আপনজন, নেই চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য। মানবেতর জীবনযাপন করা সুজন এখন সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়স্বজনহীন সুজন মানুষের দয়া-সহানুভূতির ওপর নির্ভর করেই বড় হয়েছেন। কখনো কারও বাড়ির বারান্দায়, কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাত কাটিয়ে কেটেছে তার জীবন। অভাব, অনিশ্চয়তা ও একাকীত্বই ছিল তার নিত্যসঙ্গী।
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগলেও অর্থাভাবে কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, পাইলসজনিত সংক্রমণ থেকে তার শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং তা ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহনের মতো সামর্থ্য কিংবা পাশে থাকার মতো কোনো স্বজন না থাকায় বাধ্য হয়ে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই গ্রামে ফিরে আসেন সুজন।
বর্তমানে গ্রামের একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে তার। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। তার এই করুণ জীবনসংগ্রাম স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন সরকার বলেন, “সুজনের পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সে খুব কষ্টে দিন পার করছে। অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জোটে না। আমরা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে অনুরোধ করছি, সবাই একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তাহলে হয়তো ছেলেটার চিকিৎসা সম্ভব হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সমাজের অবহেলিত এই মানুষটির পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব। সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলে হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন অসহায় সুজন সরকার।




















