অপরাধ

অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সাংবাদিকসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

  জহিরুল ইসলাম টিটু,  লক্ষ্মীপুর: ৬ জুলাই ২০২৬ , ১:১১:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি মাজেদ ও সাগর নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার মিয়ার অভিযোগ, গত ৪ জুলাই সকালে তার বাবা মহিউর গাজী ও একই এলাকার মোস্তফা ঢালীকে নতুন বাজার খেজুরতলা এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের মাঠে আটকে রাখে অভিযুক্তরা। পরে প্রথমত জিম্মিদের পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা এবং পরে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রায়পুর থানা পুলিশ দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে মাগরিবের পর ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে ভিকটিমদের ছেড়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগীর ছেলে দেলোয়ার মিয়া বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ‘দৈনিক কালবেলা’র উপজেলা প্রতিনিধি মাজেদ ও সাগর নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়।
অভিযুক্ত মাজেদ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ঘটনার সত্যতা আছে। বিপদ আসলে যেমন হয়, এখন আমারও তেমন পরিস্থিতি হয়েছে।
মাজেদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারের এজেন্ট রাশেদ জানান, মাজেদ আমার কাছ থেকে এজেন্ট নম্বর নিয়ে ৭০ হাজার টাকা আসবে বলে জানায়, পরে দেখি ৫ হাজার টাকা এসেছে। পরক্ষণে টাকাটি মাজেদ নিজেই নিয়ে যায়।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার সত্বে স্থানীয় কায়েজন বাসিন্দা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। মাজেদ কিছুমাস আগেও এক মেয়েকে দোকানের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করেন, পরবর্তীতে ওই মেয়ের মায়ের নিকট ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান, আমরা মাজেদের বিচার চাই।
যার প্রভাব ইতোমধ্যে রায়পুরের সাংবাদিক সমাজেও পড়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মাজেদের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণ চেষ্টা’সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content