প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:১৯:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মোহাইমিনুল ইসলামঃ পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া কুড়িগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অরণ্য’-র ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর)।
উলিপুর উপজেলার জিয়াপুকুর প্রাঙ্গণে বিকেল ৪টায় কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিন ও রবিউল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অরণ্যের সাধারণ সম্পাদক জামিউল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মীর মোসারফ, সদস্য আজিজুল ইসলাম ও নুর মোহাম্মদ (রোকন),
সদর উপজেলা কমিটির প্রতিনিধি গালিব ও আবু যোবায়ের, এবং কুড়িগ্রাম কলেজ কমিটির সদস্য বন্যা খাতুন, মুন্নি, আইরিন ও সোহাগ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, গাছের সঠিক পরিচর্যাও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রতিরোধ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ অপরিসীম ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, অরণ্যের মতো সংগঠনগুলো তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ করছে যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের সীমান্ত কফি হাউজে যাত্রা শুরু করা ‘অরণ্য’ ইতোমধ্যে জেলার নানা স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সংগঠনটি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, রেলস্টেশনসহ জনকল্যাণমূলক স্থানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
চলতি বছরে সংগঠনটি নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে পরিবারের আঙিনায় একটি করে গাছ লাগানোর এক অভিনব ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং পরিবেশবান্ধব একটি নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘অরণ্য’ প্রতি বছর গড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০-এরও বেশি ফলদ, ঔষধি ও কাঠজাত বৃক্ষের চারা রোপণ করে থাকে। কখনো শিক্ষার্থীদের মাঝে কখনো পথচারীদের হাতে তুলে দেয় সবুজের বার্তা।
এই সংগঠনের সদস্যরা সকলেই স্বেচ্ছাসেবক। নিজেদের সামর্থ্য এবং উৎসাহ থেকেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।
পরিবেশ রক্ষার মতো একটি জরুরি বিষয়ে তরুণদের এমন সৃজনশীল ও মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
অরণ্য’র ৯ বছরের যাত্রা ভবিষ্যতের আরও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।সবুজে সবুজে ভরে উঠুক কুড়িগ্রাম সবুজ হয়ে উঠুক আমাদের বাংলাদেশ।এই প্রত্যাশায় শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন।





















