প্রচ্ছদ

সিমের তথ্য বিক্রি, ভুয়া সার্টিফিকেটের কারখানা!

  প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৫ , ১০:৪৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে গোপনে চলছে একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্রের তৎপরতা, যারা সাধারণ মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং সিম নিবন্ধনের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পাচার করছে। সাংবাদিক রবিউল হোসেনের দীর্ঘ তিন মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চক্রের বিস্তৃত জাল।

 

জানা গেছে, মোবাইল নম্বর কিনতে গিয়ে অনেকেই নিজের এনআইডি জমা দিয়ে সিম নিবন্ধন করছেন। সেই তথ্যই পরবর্তীতে ব্যবহার করা হচ্ছে আরও সিম চালু করতে, এমনকি এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে কালোবাজারে।
এই পাচারচক্রের সাথে জড়িত রয়েছে দেশের নামকরা মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর কিছু অসাধু কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, তারা বাইরের লোকদের কাছে গ্রাহকের সিম নম্বর, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং শেষ লোকেশন পর্যন্ত সরবরাহ করছে।
শুধু এনআইডি বা সিম তথ্য নয়, চক্রটি এখন তৈরি করে দিচ্ছে ভুয়া স্কুল সার্টিফিকেট, মাদ্রাসা সার্টিফিকেট, এমনকি বাবা-মায়ের নিবন্ধন ছাড়াও জন্মনিবন্ধন সনদ বানিয়ে দিচ্ছে ১৮০০ টাকার বিনিময়ে। বাবা-মায়ের নিবন্ধন থাকলে সেটা ১৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সাংবাদিক রবিউল হোসেন বলেন, “এই চক্রের মূল রুট খুঁজে পেতে আমাকে ছদ্মবেশে থাকতে হয়েছে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আজ আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি—দেশের প্রতিটি জেলায় এদের এজেন্ট রয়েছে। সংখ্যাটি আনুমানিক ৩৬৫ জনেরও বেশি।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে সচেতন মহলের দাবি, এই চক্রকে দমন করতে হলে সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এখনই এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের তথ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
তথ্য পাচার বন্ধে করণীয়:
• সিম রেজিস্ট্রেশনের সময় সতর্কতা অবলম্বন
• এনআইডি বা বায়োমেট্রিক তথ্য কাউকে না দেওয়া
• সন্দেহজনক অফার বা এজেন্ট থেকে দূরে থাকা
• সরকার ও বিটিআরসিকে শক্ত নজরদারির আহ্বান

আরও খবর

Sponsered content