বগুড়া প্রতিনিধি: ২ মে ২০২৬ , ৮:৩০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
ভিভো বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ যৌথভাবে বগুড়ায় সফলভাবে আয়োজন করেছে “ক্যাপচার দ্য ফিউচার ২০২৬”। শিশুদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তিন বছর ধরে চলা এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য স্মার্টফোনকে আত্মপ্রকাশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হচ্ছে, যাতে তারা ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।
গত তিন বছরে ঢাকা, খুলনা ও বগুড়ার ৩০০-এর বেশি শিশু এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছে। এতে তারা ফটোগ্রাফির দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও ডিজিটাল জ্ঞান বাড়িয়েছে এবং ছবি দিয়ে গল্প বলার ক্ষমতা উন্নত করেছে।
এবারের বগুড়া পর্বে অংশগ্রহণকারী শিশুরা ভিভো স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি ও গল্প বলার প্রশিক্ষণ নেয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা চারপাশ পর্যবেক্ষণ, সৃজনশীল চিন্তা এবং দৈনন্দিন মুহূর্তগুলোকে ভিজ্যুয়াল গল্পে রূপ দিতে শিখেছে।
৩০ এপ্রিল ও ১ মে দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেয় এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ছবি ধারণ করে। ২ মে সমাপনী অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের কাজ প্রদর্শিত হয় এবং তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের পরিবার ও পেশাদার ফটোগ্রাফাররাও উপস্থিত ছিলেন।
ভিভো বাংলাদেশের সহকারী ব্যবস্থাপক তানভীর হাসান মজুমদার বলেন, “এই প্রদর্শনীতে শিশুদের তিন বছরের অগ্রগতি স্পষ্ট। তারা শুধু ফটোগ্রাফি শেখেনি, নিজেদের গল্প প্রকাশের একটি পথ খুঁজে পেয়েছে।”
পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান তানভীর মুরাদ তপু বলেন, “অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই আগে স্মার্টফোন সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করেনি, এখন তারা নিজেদের গল্প তুলে ধরছে।”
১৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারী মালিহা জানায়, “এখন আমি আমার জীবনকে ভিন্নভাবে দেখি। প্রতিটি ছবির একটি গল্প আছে, আর আমি সেটাই বলতে চাই।”
এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশের উপ-পরিচালক (ফান্ড ডেভেলপমেন্ট ও কমিউনিকেশন) রাসেল মিয়া বলেন, “শিশুদের এই অর্জন দেখে আমরা গর্বিত। এই প্রোগ্রাম তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তির অনুভূতিও তৈরি করেছে।”
প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে “ক্যাপচার দ্য ফিউচার” দেখিয়েছে, ডিজিটাল টুলস কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে পারে এবং শিশুদের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভিভো বাংলাদেশ।




















