বনানী (ঢাকা) প্রতিনিধি: ৬ মার্চ ২০২৬ , ২:৫৩:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীসহ সারাদেশে পথচারীদের চলাচলে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটপাত দখল। কোথাও ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত নেই; অধিকাংশ জায়গাই ভাসমান দোকানপাটের দখলে। মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশন অভিযান চালালেও উচ্ছেদের পরপরই আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সে দলের কিছু নেতাকর্মী ফুটপাতের দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চাঁদার একটি অংশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও পৌঁছে যায়। ফলে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয় না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী থানাধীন মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় স্কয়ার বিল্ডিংয়ের পাশের সড়কের ফুটপাত দখল করে ক্যাম্প স্থাপন করেছেন আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী হৃদয় খান নয়ন। তিনি বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। ওই স্থানে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনকালীন প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামসংবলিত ব্যানারও দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কে আগে থেকেই গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিশৃঙ্খলা থাকে এবং ফুটপাত প্রায়ই পথচারীদের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানীর এক বাসিন্দা বলেন, “একজন কাউন্সিলর প্রার্থী যদি নির্বাচিত হওয়ার আগেই এভাবে ফুটপাত দখল করেন, তাহলে নির্বাচিত হলে কী করবেন?” কেউ কেউ এটিকে ফুটপাত দখল ধরে রাখার কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে হাজী হৃদয় খান নয়নের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে অবৈধ ব্যবসায় যুবদল নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে কোথাও দখল বাণিজ্যের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সতর্কবার্তা অনলাইন ও অফলাইনে প্রশংসিত হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফুটপাত দখলের পেছনে কারা জড়িত—এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন একে অপরের ওপর দায় চাপায়। আবার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এক সংস্থা আরেক সংস্থার দিকে দায় ঠেলে দেয়। ফলে দায়িত্ব কেউই স্পষ্টভাবে নেয় না।
বনানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড় এলাকায় সারাক্ষণ মানুষের ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু সেখানে ফুটপাত এমনভাবে দখল হয়ে গেছে যে পথচারীরা রাস্তা পার হয়ে ফুটপাতে দাঁড়ানোর মতো ফাঁকা জায়গাও পাচ্ছেন না। পুরো ফুটপাতই দোকানপাটে ভরে গেছে।
ফুটপাতের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও থানা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত চাঁদা দিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করেন।
এদিকে বনানী থানা বিএনপির এক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিযোগ করে লিখেছেন, “বনানীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে মেইন রোডের দুই পাশের দোকান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মাঝের রাস্তার দোকানগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজি হচ্ছে।”
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন সেই নির্দেশের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ।




















