সারাদেশ

অবসরের পরও তদবিরের অভিযোগ: ডাসারে বিতর্কিত প্রধান শিক্ষকের পুনঃনিয়োগ চান না এলাকাবাসী

  ইব্রাহিম সবুজ , স্টাফ রিপোর্টার মাদারীপুর ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৩০:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী শশীকর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সুনীত কুমার তালুকদারকে ঘিরে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত ৩১ জুলাই অবসরে যাওয়ার পরও পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নিতে তাঁর নানামুখী তদবির তৎপরতার খবরে এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিতর্কিত এই শিক্ষককে আর কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের দায়িত্বে দেখতে চান না তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৮ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও সুনীত কুমার তালুকদার বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারেননি। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি নিয়ম বহির্ভূতভাবে দু’বার আদায় করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অনলাইন ফি গ্রহণ। এছাড়া দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক ছাত্রী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পৃথক কমন রুমের ন্যূনতম ব্যবস্থাও না করা। তাই তাঁকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমবে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে মন্তব্য এলাকাবাসীর।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় অভিভাবক লিটন বিশ্বাস বলেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। আমরা তাকে আর কোনো অবস্থাতেই এই বিদ্যালয়ে চাই না। এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল একজন নতুন, দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রধান শিক্ষক চান।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক দেব দুলাল সরকার জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি পদাধিকারবলে ইউএনও মহোদয়। তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কাউকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেননি। তবে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বর্তমানে আমি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে সার্বিক কাজ পরিচালনা করছি।
এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, আইন ও সরকারি নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শতবর্ষী এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় অতীত ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন স্থায়ী, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও খবর

Sponsered content