খেলাধুলা

হাসানের জোড়া আঘাতে চাপে অস্ট্রেলিয়া

  প্রতিনিধি ১৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪০:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটারকেই একই ধরনের আউটে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ অবস্থানে রেখেছেন হাসান মাহমুদ। চা বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১৭৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

এর আগে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ২২৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই চাপ তৈরি করেন হাসান। দ্বিতীয় ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। এই টেস্টের আগে ব্যাটিং কৌশল নিয়ে আলোচনায় থাকা ওয়েদারাল্ড মাত্র তিন বল খেলেই বিদায় নেন। বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে।

অন্য প্রান্ত থেকে তাসকিন আহমেদও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নিয়মিত পরীক্ষা করছিলেন। মারনাস লাবুশেনকে ঘিরে বেশ কয়েকবার জোরালো আবেদন হয়। এর মধ্যে একটি আবেদনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদনও করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ষষ্ঠ ওভারে হাসানের বলে ট্রাভিস হেড দুটি চার মারেন। তবে পরের ওভারেই তাকে ফিরিয়ে দেন হাসান। ওয়েদারাল্ডের মতো হেডও ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন। মজার ব্যাপার হলো, সাজঘরে ফেরার আগে হেড নিজেই স্টাম্পের ওপর পড়ে যাওয়া বেলটি আবার ঠিক জায়গায় বসিয়ে দেন।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জশ হ্যাজলউড। তৃতীয় দিনে পতন হওয়া বাংলাদেশের চারটি উইকেটই শিকার করেন তিনি। ৮৯ রানে ছয় উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করেছে, যা গত সাত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দলের সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ক্লান্ত করে দেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত শতরান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ভর করে বড় লিডের ভিত গড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসে একাধিক বড় জুটি গড়ে ওঠে, বিশেষ করে ওপরের সারির ব্যাটারদের মধ্যে। পরে মেহেদী নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে অসাধারণভাবে ইনিংস টেনে নিয়ে যান।

দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে দ্বিতীয় নতুন বলের বিপক্ষে দ্রুত তিনটি উইকেট হারানোর পর মেহেদী সঙ্গী হিসেবে পান হাসান মাহমুদ, তাসকিন ও তাইজুল ইসলামকে। শেষ চার উইকেট মিলে ৫২.৩ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে বাংলাদেশ। নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাট করার সময় মেহেদী বেশির ভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররাও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

এই টেস্টে বাংলাদেশের এমন দাপট ছিল প্রত্যাশার বাইরে। গত সপ্তাহে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর অনেকেই বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু তানজিদের প্রথম টেস্ট শতরান, শান্ত ও মেহেদীর অর্ধশতক এবং হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের দুর্দান্ত বোলিং বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।

তৃতীয় দিনের সকালেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মেহেদী নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তুলে নেন। পরে ক্যামেরন গ্রিনকে হুক করে ছক্কা মেরে প্রথম সেশন শেষ করেন তিনি। আট, নয় ও দশ নম্বরে থাকা হাসান মাহমুদ, তাইজুল ও তাসকিনও রক্ষণাত্মক ব্যাটিং, বল ছেড়ে দেওয়া এবং আচমকা বড় শটে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডারদের ব্যর্থতাও বাংলাদেশের বড় লিড পাওয়ার পথে ভূমিকা রেখেছে। মোট পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। এর মধ্যে কামিন্সের এক ওভারে তাসকিনের বলে স্কয়ার লেগের পেছনে সহজ ক্যাচ ফেলেন স্টিভেন স্মিথ। এরপর মিডউইকেট থেকে পেছনে দৌড়ে এসে মেহেদীর ক্যাচ নিতে পারেননি ট্রাভিস হেড।

তৃতীয় দিনের শুরুতে হ্যাজলউডের বলে হাসান মাহমুদ পায়ের সামনে আটকা পড়েন। ৯২ বল খেলে দুই ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ক্রিজে ছিলেন হাসান, যা টেস্টে তার সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস। মেহেদীর সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটিতে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর ২৩ বল টিকে থেকে হ্যাজলউডের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল। তার আগে অবশ্য স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের সাজঘরে আনন্দের ঢেউ তুলেছিলেন তিনি।

এরপর মেহেদী প্রথমে অর্ধশতক পূর্ণ করেন, পরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০ রানের লিডের মাইলফলক স্পর্শ করে। বিদেশের মাটিতে টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটিং করে এত বড় লিড নেওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা। এখন বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত চাপে ফেলতে পারলে ঐতিহাসিক জয়ের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে।

আরও খবর

Sponsered content