প্রতিনিধি ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:১৭:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জি৭। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোট জানিয়েছে, আগামী চার মাস ধরে ধাপে ধাপে মজুত জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে এবং কার্যক্রম শুরু হবে অবিলম্বে।
জি৭ নেতারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও ডিজেল ছাড়ার বিষয়েও আলোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের মজুত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত এলো। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানিজাত পণ্যের রপ্তানিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। জি৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স। বৈঠকগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও প্রতিনিধিত্ব করে।
ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের মজুত থেকে আরও বেশি ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমবে। তবে একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপ তাদের বিপুল মজুত ডিজেল তেলের একটি বড় অংশ বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে। প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।’
ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এর আগে বলেছিলেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, পণ্য পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীদের যেন পুরো চাপ বহন করতে না হয়।
পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ‘কখনোই সত্যিকার অর্থে আলোচনার টেবিলে ছিল না’। জি৭-এর মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যা করেছে, তা দারুণ একটি পদক্ষেপ।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইউরোপের কাছে প্রচুর ডিজেল রয়েছে এবং তারা বিশ্বে বড় ধরনের অবদান রাখতে যাচ্ছে—আমরাও তাই করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছি না। আমরা যা করার কথা, সেটাই করব।’
এর আগে গত সপ্তাহের শুরুতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবারও বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। একই সময়ে তার প্রশাসন ইউরোপকে নিজেদের মজুত জ্বালানি বাজারে ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল।
পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ে।
জি৭ নেতাদের বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে চার মাসের মধ্যে মজুত থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জোটটি।





















