প্রতিনিধি ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১২:১১:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারি ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেন তিনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনসারি জেলার একটি গ্রামে গত রোববার সংঘাতের সূচনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে। এরপর বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালে পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সুনসারি ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ জারি করে জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকার দেশের জনগণ, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্ত হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া শক্তি প্রয়োগ না করে জানমাল রক্ষার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।





















