আন্তর্জাতিক

৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদহার বাড়াল জাপান

  প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:২১:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিনের অতি কম সুদহারের নীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ধারাবাহিকতায় আবারও সুদহার বাড়িয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার বহুল প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) মূল সুদহার ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে। ১৯৯৫ সালের পর এটি দেশটির সর্বোচ্চ সুদহার। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়ানোর পথে রয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিন বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সুদহার বাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঋণের খরচ বাড়িয়েছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সালে সুদহার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। তখন দেশটির মূল সুদহার ছিল ঋণাত্মক ০ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর গত আড়াই বছরে ছয়বার সুদহার বাড়িয়েছে ব্যাংকটি।

অন্যান্য বড় অর্থনীতির সুদহারের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে সুদহার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। সাধারণত কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়ালে ওই দেশের মুদ্রা তুলনামূলক শক্তিশালী হয়। কারণ এতে মুদ্রাটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তবে জাপান এখনো বেশ কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ইয়েন, বাড়তে থাকা পণ্যমূল্য এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকোচন।

বিওজের সিদ্ধান্তের আগে শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগস্টে জাপানের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। খাদ্য ও জ্বালানির মতো কিছু অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি আগস্টে ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাপানের মূল্যস্ফীতি খুব বেশি না হলেও দেশটির অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক নতুন ঘটনা। প্রায় তিন দশক ধরে জাপান অত্যন্ত কম মূল্যস্ফীতি কিংবা মূল্যপতনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে এই বাধার ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপানের ইয়েনও চাপের মুখে রয়েছে। আগস্টে ইয়েনের দর ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর পতন ঠেকাতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে। ২০১১ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের প্রথম সমন্বিত হস্তক্ষেপ। ওই বছর জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ইয়েন দুর্বল করতে দুই দেশ একসঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তখন জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়ে দ্বিধা না করার কথা জানিয়েছিলেন।

ইয়েনের দর সমর্থনে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও সুদহার বাড়ানোর জন্যও চাপ দিয়ে আসছেন বেসেন্ট। বিওজের গভর্নর কাজুও উয়েদার প্রতি তিনি ‘সঠিক কাজটি করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content