আন্তর্জাতিক

পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি পুতিনের, সব অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত রাশিয়া

  প্রতিনিধি ৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:৫৪:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ার বাল্টিক উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন অঞ্চল কালিনিনগ্রাদ সরাসরি হামলার শিকার হলে তার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানান, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন বক্তব্য দেওয়ার পর মস্কো কেবল তার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহজুড়ে রাশিয়া অভিযোগ করে আসছে, উত্তর আটলান্টিক জোট কালিনিনগ্রাদ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। মস্কো সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিমারা কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে উত্তর আটলান্টিক জোট। তারা জোটটিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়াকে ‘পারমাণবিক হুমকি’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত ছায়াযুদ্ধের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহেই পোল্যান্ড জানিয়েছিল, কালিনিনগ্রাদের কাছাকাছি তাদের ভূখণ্ডে রাশিয়ার একটি হেলিকপ্টার ঢুকে পড়েছিল। অন্যদিকে লিথুয়ানিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার কারণে দেশটির মানুষ ‘প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে’ থাকার অনুভূতি পাচ্ছে। এর একটি কারণ হিসেবে দেশটির আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বৃহস্পতিবার বলেছেন, তার দেশ আরও ছায়াযুদ্ধের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, ‘যার মধ্যে গুরুতর ঘটনাও থাকতে পারে’। আগস্টে লাইপজিগ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া যাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। বিমানবন্দরটি ইউক্রেনগামী পণ্যবাহী বিমানের কাছাকাছি অবস্থিত।

পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ভালদাই সম্মেলনে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ‘পশ্চিমা আধিপত্য’ দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি মনে করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার বিষয়টি রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকলেও পুতিন আবারও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, মস্কোকে আত্মরক্ষা করতে এবং অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ইউক্রেনের হামলার জবাবেই রাশিয়া দেশটির অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং কৃষ্ণসাগরে থাকা রুশ জাহাজে হামলা চালানোর পরই এসব পাল্টা হামলা করা হচ্ছে।

পুতিন বলেন, ‘এখন চারদিক থেকে আমাদের বলা হচ্ছে, চলুন থামি। কিন্তু তারাই তো শুরু করেছিল।’

ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে হামলার কিছুটা সাফল্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পুতিন। তার দাবি, এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। তবে ইউক্রেনের বক্তব্য, রুশ তেল অবকাঠামোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে কারণ এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে সহায়তা করে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। প্রতি শীতেই এসব হামলা আরও বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content