আন্তর্জাতিক

ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ভাবনা ট্রাম্পের, ইউরোপকে মজুত ছাড়ার আহ্বান

  প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:২১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে তাদের মজুত থাকা ডিজেলের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার অনুরোধ করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপকে অবিলম্বে ডিজেলের মজুত ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর পুরো চাপ পড়া উচিত নয়।

বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘চলমান সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলায় ইউরোপীয় অংশীদারদের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির আওতায় সরবরাহ দ্রুত করা এবং অতিরিক্ত মজুত অবিলম্বে বাজারে আনা উচিত।’

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সপ্তাহান্তে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিষয়টি তার প্রশাসন ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছে। পরে তিনি জানান, প্রয়োজনে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের ডিজেলের মজুতের একটি অংশ ছাড়তে বলতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম দেশটির ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মার্টিন ম্যাকক্লাসকি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তিসংগত। তবে বছরের শুরুতে কৌশলগত জ্বালানি মজুত সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়ার পরও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনো কিছু মজুত রয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল। সম্ভাব্য ডিজেল সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও জানিয়েছে তারা। তবে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকার।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিজেল পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও চাপে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দেশটির শোধনাগারগুলো অক্টোবরে কিছু জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে।

আরও খবর

Sponsered content